আপডেট নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় ডেস্ক
জন্মের পর থেকে একজন নাগরিকের জন্য একটি স্থায়ী ও স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থার নাম ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি’ বা ‘এক-আইডি’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের পরই নাগরিকের জন্য এই পরিচয় তৈরি হবে এবং পরবর্তী জীবনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে এটি ব্যবহার করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে জন্মের পর শিশুর জন্মনিবন্ধন করা হয় এবং ১৮ বছর বয়স হলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট, টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন পরিচয় ও সেবা-সংক্রান্ত নম্বর ব্যবহার করতে হয়। প্রস্তাবিত ‘এক-আইডি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব পরিচয় ও সেবাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জন্মের পরই হবে পরিচয়
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বয়সের ভিত্তিতে আলাদা করে এনআইডি নেওয়ার প্রয়োজন না থাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জন্মের পরই একজন নাগরিকের জন্য একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় তৈরি হবে, যা সারা জীবন বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সময় একই ব্যক্তিগত তথ্য বারবার দেওয়ার প্রয়োজন কমে আসবে।
কোন কোন সেবায় ব্যবহার হবে?
‘এক-আইডি’র মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, ভূমি, করসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার সঙ্গে এ পরিচয়ব্যবস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে কোন কোন কার্ড ও সেবা চূড়ান্তভাবে এর আওতায় আসবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ডি-স্টার প্রকল্প
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (ডি-স্টার)’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। প্রস্তাবিত সময়কাল ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত এবং এটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
প্রায় ১৮ কোটি নাগরিককে আওতায় আনার পরিকল্পনা
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৮ কোটি নাগরিককে ‘এক-আইডি’র আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় কার্ড উৎপাদনের সংখ্যা ২০ কোটি ধরা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখনই এনআইডি বাতিল হচ্ছে না
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘এক-আইডি’ এখনো চালু হয়নি। এটি একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প, যা বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়ার পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এখনই বর্তমান এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন বাতিল হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রকল্প অনুমোদনের পর এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, বিদ্যমান পরিচয়পত্রগুলোর ভবিষ্যৎ এবং কোন কোন সেবা এক-আইডির সঙ্গে যুক্ত হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সরকারি সেবা গ্রহণ সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি একই তথ্য বারবার দেওয়ার ভোগান্তি কমতে পারে। তবে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
UPDATED NEWS – নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও যাচাইকৃত সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


No comments:
Post a Comment