আপডেট নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ সনদে চালু হলো QR কোড: জাল সনদ ঠেকাতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ৬০ লাখ সদস্যের বৃহত্তম ডিজিটাল ERP প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের পরিচয় ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় প্রশিক্ষণ সনদপত্রে QR কোডভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সনদ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভুয়া প্রশিক্ষণ সনদ তৈরি, ব্যবহার এবং বাহিনীর সদস্য পরিচয় অপব্যবহারের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের বৃহৎ এই বাহিনীর তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ হিসেবে Digital ERP ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে।
যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি Google Play Store থেকে Ansar VDP Management Information System (AVMIS) অ্যাপ ডাউনলোড করে নিজস্ব তথ্যের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করেন।
এরপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ্য আবেদনকারী নির্বাচন করেন। নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে TRGMS Software-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ব্যাচ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়। পরে যোগ্য সদস্যদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অ্যাসাইন করা হয়।
ডিজিটাল ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার পর নতুন করে কোনো সদস্যকে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যুক্ত করার সুযোগ থাকে না। ফলে প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি একটি নিয়ন্ত্রিত ও ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
QR কোডযুক্ত সনদ তৈরি
প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট জেলা কমান্ড্যান্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা TRGMS Software-এর Course Certification অপশন ব্যবহার করে প্রশিক্ষণার্থীর জন্য QR কোডযুক্ত ডিজিটাল সনদ তৈরি করেন।
সনদে থাকা QR কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট সদস্যের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সনদের তথ্য ও কপি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
ফলে কোনো সদস্যের মূল সনদ হারিয়ে গেলেও সফটওয়্যার থেকে পরবর্তীতে আসল সনদ পুনরায় ডাউনলোড করার সুযোগ থাকবে।
বন্ধ হবে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া, কমবে জালিয়াতির সুযোগ
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে আগে প্রচলিত ম্যানুয়ালি সনদ সংগ্রহ এবং হাতে নাম-নম্বর লেখার মতো সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া অনেকটাই দূর হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ না নিয়েও ভুয়া সনদ তৈরি করে বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেওয়ার সুযোগ কমবে।
বিশেষ করে দুর্গাপূজা, জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক মোতায়েনের সময় ভুয়া প্রশিক্ষণ সনদ ব্যবহার করে সদস্য পরিচয় দেওয়া, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন কিংবা বাহিনীর পরিচয় অপব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রতিরোধে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে ডিজিটাল ব্যবস্থা
QR কোডভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সনদ চালুর ফলে একজন সদস্যের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই আরও দ্রুত, সহজ ও নির্ভুল হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে তথ্য সংরক্ষণের কারণে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যের নিরাপত্তা বাড়বে।
আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনায় এই ডিজিটাল উদ্যোগকে বাহিনীর বৃহৎ সদস্য কাঠামোকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
UPDATED NEWS – সবার আগে নির্ভরযোগ্য চাকরির খবর।


No comments:
Post a Comment