প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জাতীয় জুট মিলস পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) কাছ থেকে মিলটি ৩০ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। নতুন ব্যবস্থাপনায় মিলটি নতুন নামে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের নাম | জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড |
| অবস্থান | রায়পুর, সিরাজগঞ্জ সদর, সিরাজগঞ্জ |
| ইজারাদার প্রতিষ্ঠান | প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ |
| ইজারার মেয়াদ | ৩০ বছর |
| পরিকল্পিত নতুন নাম | সিরাজগঞ্জ টেক্সটাইল লিমিটেড |
| সম্ভাব্য বিনিয়োগ | প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা |
| সম্ভাব্য কর্মসংস্থান | ৫,২৩৮ জন |
| সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার | প্রায় ৫০০ কোটি টাকা |
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এই মিলটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।
২০২৬ সালের ১১ আগস্ট বিজেএমসির সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কাছে ৩০ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থাপনায় জাতীয় জুট মিলটি ‘সিরাজগঞ্জ টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামে পরিচালনার পরিকল্পনার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নতুন নামে মিলটি আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় জুট মিল পুনরায় চালুর প্রকল্পে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসতে পারে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিলটি চালু হলে স্থানীয় শ্রমিক ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় জুট মিলের জায়গাটি শুধু প্রচলিত পাটশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।
- নিটওয়্যার উৎপাদন
- ওভেন গার্মেন্টস
- ডেনিম পণ্য
- জ্যাকেট উৎপাদন
- ওয়াশিং প্ল্যান্ট
- হস্তশিল্প ও ব্যাগ
- ফুটওয়্যার
- খেলনা উৎপাদন
- আধুনিক কাঁচামাল ও প্যাকেজিং
- পণ্য সংরক্ষণাগার
- ✔ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
- ✔ সিরাজগঞ্জের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসতে পারে।
- ✔ স্থানীয় মানুষের আয় ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
- ✔ উত্তরবঙ্গের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে কওমী জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির নাম জাতীয় জুট মিল হিসেবে পরিচিতি পায়।
বিভিন্ন সময়ে মিলটি বন্ধ ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এবার প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ইজারার মাধ্যমে মিলটি নতুন ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জাতীয় জুট মিলটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অধীনে ইজারা দেওয়া হয়েছে—এটি নিশ্চিত তথ্য। তবে নতুন নামে পরিচালনার বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘সিরাজগঞ্জ টেক্সটাইল লিমিটেড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নতুন নাম ও কার্যক্রমের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পরবর্তী সরকারি/প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জাতীয় জুট মিল আবার চালুর উদ্যোগ সিরাজগঞ্জের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

No comments:
Post a Comment