আপডেট নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
থানচি সীমান্তে আরাকান আর্মির ট্রেনিং ক্যাম্প, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে আরাকান আর্মির (এএ) ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড়মদক সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমার অংশে আরাকান আর্মির প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থাকার তথ্য সামনে আসায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আরও চেকপোস্ট স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকসার উদ্দিন খান। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সীমান্ত | বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত |
| আলোচিত এলাকা | থানচি উপজেলার বড়মদক সীমান্ত |
| সীমান্ত পিলার | ৭০ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন মিয়ানমার অংশ |
| সংশ্লিষ্ট সংগঠন | আরাকান আর্মি (এএ) |
| উদ্বেগের কারণ | প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ |
| বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা | আরও চেকপোস্ট ও নজরদারি জোরদার |
| বক্তব্য | বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার |
বড়মদক সীমান্তের ওপারে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের তথ্য
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড়মদক সীমান্তের ৭০ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি মিয়ানমার অংশে আরাকান আর্মির একাধিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের সীমান্তের খুব কাছাকাছি এ ধরনের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার তথ্য সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাখাইন জনগোষ্ঠীর তরুণদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে এবং কোথাও কোথাও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আরাকান আর্মিতে যুক্ত করা হচ্ছে। পরে তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও সদস্য সংগ্রহের বিষয়গুলোকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সীমান্তে নিরাপত্তা শঙ্কা
সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র সংগঠনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের খবর বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও মাদক পাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে থানচির দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে যোগাযোগ ও নজরদারি তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও চেকপোস্ট স্থাপনের কাজ চলছে
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকসার উদ্দিন খান জানিয়েছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে আরও চেকপোস্ট স্থাপনের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবির নজরদারি ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি
থানচির বড়মদকসহ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও বলেছেন তারা।
সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করা গেলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে কোনো সশস্ত্র সংগঠনের প্রশিক্ষণ ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রমের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় পড়তে পারে।
তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে চেকপোস্ট বাড়ানো, বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সীমান্তবাসীদের উদ্বেগ
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব অতীতেও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পড়েছে। সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হয়েছে।
এ অবস্থায় সীমান্তের কাছাকাছি আরাকান আর্মির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের খবর স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি
সচেতন মহলের মতে, বাংলাদেশের প্রায় ২৭২ কিলোমিটার সীমান্তের বিপরীতে আরাকান আর্মির সামরিক সক্ষমতা ও সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলা, আরও চেকপোস্ট স্থাপন, বিজিবির টহল বৃদ্ধি এবং সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি জোরদার করার দাবি উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
থানচি সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থাকার যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, সদস্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে আরও চেকপোস্ট স্থাপনের কাজ চলমান থাকার বিষয়টি সীমান্ত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।
সীমান্তের পরিস্থিতি যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক নজরদারি ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব


No comments:
Post a Comment